জাবিতে আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা ডিমলায় সার ডিলার, নেপথ্যে বিএনপি নেতা বাবা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-১০-২০২৬ ০৯:১৯:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-১০-২০২৬ ০৯:১৯:০৭ অপরাহ্ন
মোঃ লিখন ইসলাম(নীলফামারী প্রতিনিধি): অভিজ্ঞ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুরোপুরি বঞ্চিত করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নে সরকারি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জাবি শাখার সাবেক সহ-সম্পাদক মো. মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে আজীবন বহিষ্কৃত ও ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ওই ছাত্রলীগ নেতা।
অভিযোগ উঠেছে, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ছেলে ও আপন ভাগিনাকে সার ডিলার বানাতে নজিরবিহীন অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন ডিমলা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং স্থানীয় শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সার ডিলার নিয়োগের এই চূড়ান্ত তালিকা ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এই ডিলার নিয়োগ অনুমোদন দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গয়াবাড়ী ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ‘মাবরুক বিজনেস সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারী মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদ। মনিটরিং কমিটির সদস্য পদে থাকার সুযোগে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন মন্ত্রণালয়ে যে প্রস্তাবিত তালিকা পাঠান, সেখানে প্রথম সিরিয়ালে রাখা হয় তাঁর ছেলে মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদের নাম এবং দ্বিতীয় সিরিয়ালে রাখা হয় তাঁরই আপন ভাগিনা চাল ব্যবসায়ী আবু তাহের সরকারের নাম। একই পরিবারের দুজনকে একই ইউনিয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ায় শুরু থেকেই বঞ্চিত হয়েছেন বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে আসা প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী গুদামের আয়তন, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য শর্ত সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করেই প্রভাব খাটিয়ে ওই তালিকা অনুমোদন করানো হয়েছে।
সার ডিলার নিয়োগ পাওয়া মাবরুক আল ইসলাম জোয়াদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আজীবন বহিষ্কার ও ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে জাবি ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম প্রধান আসামিও তিনি।
গয়াবাড়ী ইউনিয়নের ডিলারশিপের জন্য মোট ১০ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ ও বিতর্ক ওঠা সত্ত্বেও অনিয়মের মাধ্যমে অভিযুক্তকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় হতাশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার আবেদনকারী বলেন, “যেখানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে তিনি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ও মামলার আসামি, সেখানে তাকেই সরকারি সার বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হলো। ছাত্রলীগের প্রভাব এবং মনিটরিং কমিটিতে বাবা থাকার সুবাদেই অন্যায়ভাবে তাকে এই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে তালিকাগুলো আমাদের কাছে এসেছে। যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে। উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব নেই তাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাই করা।’
তবে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল জানিয়েছেন, “কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম কিংবা ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স